Govt. Laboratory High School, Khulna

Al Riaz Uddin Ripon: Sadman Mahin Shams-এর করা 6124434 নং সংস্করণ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে (পুনরুদ্ধারকারী)


== ”’গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুল,খুলনা”’ ==
”’ঠিকানা:”’ কুয়েট রোড, ফুলবাড়ীগেট-৯২০৩, খুলনা।

”’সময়সূচী:”’ সকাল ০৮টা থেকে ২টা ( গ্রীষ্মকাল), সকাল ১০টা থেকে ৪টা(শীতকাল)

”’খেলাধুলা:”’ ক্রিকেট, ফুটবল, দাবা।

”’স্হাপিত:”’ ১৯৬৭

”’মটো:”’ পড় তোমার প্রভুর নামে

”’শিক্ষার্থীর সংখ্যা:”’ ১১০০(প্রায়)

”’প্রধান শিক্ষক:”’ জনাব দূর্গেশ কুমার হালদার

”’ধরণ:”’ উচ্চ বিদ্যালয়( প্রাইমারি সেকশন সহ)

”’ফোন:”’ ০৪১-৭৭৪৪২২

=== পরিচিতি ===
দক্ষিণ বাংলার অন্যতম শিল্প নগরী খুলনা থেকে প্রায় ১৩ কিলােমিটার উত্তরে খুলনা যশাের প্রধান সড়ক হতে এক মাইল পশ্চিমে ছায়া সুনিবিড় মনােরম পরিবেশে তেলিগাতী গ্রামে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বিভাগীয় পর্যায়ে যে পাঁচটি ল্যাবরেটরি স্কুল আছে, গভঃ ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, খুলনা তার একটি। খুলনা শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের প্রশিক্ষনার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার নিমিত্তে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

=== জন্মকাল ===
খুলনা শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের প্রশিক্ষনার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার নিমিত্তে ইং ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়। ১৯৬৭ সালের ১৬ই এপ্রিল মাত্র ৩৪ জন ছাত্র নিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ।

=== জমির পরিমাণ ===
৪.৪৪ একর

=== বিদ্যালয়ের ধরণ ===
এখানে বিজ্ঞান, মানবিক এবং বাণিজ্য বিভাগে পাঠ গ্রহণের সুযােগ আছে। ছাত্র-ছাত্রী উভয়ের জন্য ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নের ব্যবস্থা রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার জন্য অত্র বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে।

=== শিক্ষার্থীর সংখ্যা ===
১১০০ জন (প্রায়)

=== শিক্ষক সংখ্যা ===
প্রধান শিক্ষক

সহকারী প্রধান শিক্ষক-১ জন।

সহকারী শিক্ষক ও পদসংখ্যা ২৪ জন। কর্মরত ২৩ জন । শূন্যপদ-০১ জন ।

কৃষি শিক্ষক- পদসংখ্যা ০১ জন কর্মরত ০১ জন

=== অফিস সহকারী ও কর্মচারী ===
উচ্চমান সহকারী – পদসংখ্যা ০১ জন কর্মরত ০১ জন ।

নিম্নমান সহকারী – পদ শূন্য।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও দপ্তরী – পদশূন্য।

নৈশ প্রহরী- ০১ জন, পদ শূন্য। মালী – পদসংখ্যা ০১ জন কর্মরত ০১ জন। প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। ঝাড়দার – পদসংখ্যা ০১ জন কর্মরত ০১ জন। দারােয়ান – পদসংখ্যা ০১ জন কর্মরত ০১ জন।

=== স্কুলের সময়সূচী ===
প্রাত্যহিক সমাবেশ-সকাল ১০টায়/৮টায়। প্রধান শিক্ষক বা তার প্রতিনিধি কর্তক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতীয় পতাকার প্রতি অভিবাদন জ্ঞাপন । শিক্ষার্থী কর্তক ধর্মগ্রন্থ থেকে অংশবিশেষ পাঠ, শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ । সমবেত জাতীয় সঙ্গীত শিক্ষার্থীদের শরীর চর্চা। বিশেষ ঘােষণা (যদি থাকে) সারিবদ্ধভবে স্ব- স্ব শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাবর্তন।

”’শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে বেতন আদায়ের তারিখ:”’ নােটিশ দিয়ে বেতনের তারিখ জানানাে হয়।

”’শিক্ষার্থীদের পোশাক:”’ ছাত্রদের জন্য নেভী ব্ল রং এর প্যান্ট, সাদা ফুল হাতা শার্ট এবং সাদা কেডস। ছাত্রীদের জন্য সাদা স্যালােয়ার কামিজ ওড়না, স্কার্ফ এবং সাদা কেডস্।

”’পরীক্ষা:”’ মেধা মুল্যায়নের উদ্দেশ্যে বছরে দুইটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা সমূহে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামুলক। পরীক্ষা সমূহে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কোনক্রমেই উপরের শ্রেণীতে প্রমােশন দেয়া হয় না। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে কিংবা স্কুলের নিয়ম শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

”’সহ পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী:”’ শুধু পুথিগত বিদ্যার্জন দিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকাশ সম্ভব নয়। কেউ গানে ভালাে-কেউ নাচে ভালাে, কেউ আবৃত্তিতে ভালাে- কেউবা গল্প বলা। বিতর্ক, বক্তব্যে কিংবা কৌতুকের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশ সম্ভব। এতে শিক্ষার্থীর মধ্যে জড়তা দূরীভূত হয় এবং যুক্তিপূর্ণভাবে কথা বলার সাহসও অভ্যাস গড়ে ওঠে। এখানে উল্লেখ করতে হয় যে এমনিভাবে গড়ে উঠা তার্কিক দলগুলাে বেশ কয়েকবার স্কুল পর্যায়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযােগিতায় টেলিভিশনের মত প্রধান গণমাধ্যমে যেতে সক্ষম হয়েছে এমনকি কোন দল বিজয়ের গৌরব নিয়ে স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লিখনী শক্তি বিকাশের জন্য পত্রিকা বিভাগ। এসবের পাশাপাশি রয়েছে আউটডাের/ ইনডাের গেমস । শিক্ষার সাথে খেলাধুলার সম্পর্কে নিবিড় । খেলাধুলা স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম উপায় । বিদ্যালয়ে একটি বিস্তীর্ণ মাঠ আছে। সেখানে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযােগিতা খুব জাক- জমকের সাথে অনুষ্ঠিত হয়।

”’স্কাউট ও গার্লস গাইড:”’ বিদ্যালয় পরিস্কার ও সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্যকারী হিসাবে স্কাউট-কাব এবং গার্লস গাইড গঠন করা হয়। এরা বিভিন্ন সময়ে জাম্বুরী ও রেলীতে যােগদান করে থাকে । বিদ্যালয়ে একটা সী স্কাউট দলও আছে। এ দলটি নির্ধারিত সময়সচী অনুযায়ী খুলনাস্থ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী দপ্তরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে । ২০১৮ সালে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে “শাপলা’ পদক গ্রহণ করে।

”’পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচী:”’ জাতীয় টেক্সবুক এবং পাঠ্যক্রম কমিটির নির্ধিারিত পাঠ্যপুস্তক এবং পাঠ্যসূচীর সাথে সঙ্গতি রেখে দুইটি পরীক্ষার সিলেবাস বা পাঠ্যক্রম পুস্তিকাকারে ছাপিয়ে সরবরাহ করা হয় । নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসারে শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ শ্রেণী পাঠ্যদান সম্পন করেন।

”’গ্রন্হাগার:”’ গ্রন্থাগার জ্ঞানের ভান্ডার। জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীর জন্য নির্মল আনন্দ সরােবর। জ্ঞানাজনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বিকার্য। গ্রন্থাগারের জন্য প্রতি বছর কিছু নতুন বই পুস্তক ক্রয় করা হয়। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষক-শিক্ষকা এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণী উপযােগী বই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন চলে।

”’বিজ্ঞানাগার:”’বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। এ যুগে মানুষ বাস্তববাদী বিজ্ঞানমুখী-পরীক্ষার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের জন্য চলছে তৎপরতা। শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষাদানের জন্য আমাদের বিদ্যালয়ের রয়েছে তিনটি পৃথক বিজ্ঞানাগার। নবম ও দশম ছাত্র ছাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞানাগারে গিয়ে অধীত বিষয়ের উপর গবেষণা চালায় এবং যন্ত্রপাতির সাহায্যে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে। বিজ্ঞানাগারে দিক নির্দেশনার জন্য রয়েছে যােগ্যতা সম্পন্ন দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা। উল্লেখ্য যে, বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতি বছর স্থানীয় বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে এবং কৃতিত্ব অর্জন করার সুনাম রয়েছে।

”’কমন রুম:”’ নির্মল বিনােদনের জন্য শিক্ষার্থীদের কমনরুমের প্রয়ােজন ও কম নয়। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দুটি পৃথক কমনরুম রয়েছে। এখানে লুডু,ক্যারাম,দাবা ও টেবিল টেনিস খেলার ব্যবস্হা রয়েছে। বছরে একবার আন্ত:কক্ষ প্রতিযোগিতা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে দৈনিক পড়ার ব্যবস্হা আছে।

”’অন্যান্য:”’ বিদ্যালয়ে দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়ার সহযােগিতা প্রদানের জন্য একটি দরিদ্র তহবিল আছে। যেখান থেকে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে মাসিক বেতন পরিশােধ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের মাধ্যমে এ অর্থ বিলি বন্টন হয়। নামায মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের একটা বড় মাধ্যম। ধর্মীয় শিক্ষা চেতনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সুন্দর আচরণ গড়ে তােলা প্রয়ােজন। এজন্য রয়েছে ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক নাম কক্ষ। মুসলমান শিক্ষকগণ ছাত্রদের নিয়ে জামাতের সাথে জোহরের নামায আদায় করেন। নামাযে। নিয়মিত (সর্বোচ্চ) হাজিরার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। ও মিলাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। প্রতি বছর ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স:) উপলক্ষে বড় রকমের মিলাদ মাহফিলের আয়ােজন করা হয়। এ মহফিলে শিক্ষার্থীরা তেলাওয়াত, হামদ, নাত, গজল, আযান, ব্যবহারিক ওযু ও নামাজ, মহানবীর জীবনী আলােচনা, রচনা প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করে ধর্মীয় জ্ঞানের ভান্ডার পুষ্ট করে এবং পুরস্কারও লাভ করে । অনুষ্ঠান শেষে তবারক বিতরণ করা হয় । ও সকাল দশটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে ক্ষুধা-ক্লান্তি অনুভব করে। এজন্য টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়। টিফিন বাবদ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক ৭৫/হারে জমা নেয়া হয়। যতদূর সম্ভব ছাত্র-ছাত্রীদের রুচি ও স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে মানসম্পন্ন। টিফিন সরবরাহ করা হয় । বছর শেষে টিফিন ফান্ডে উদ্বৃত্ত টাকা দিয়ে প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষার পর পরই বার্ষিক প্রীতিভােজের আয়ােজন করা হয়। গভঃ ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, খুলনা এর রয়েছে বিশাল আকৃতির এক মিলনায়তন। যেখানে আমাদের স্কুলের বার্ষিক বড় বড় অনুষ্ঠানগুলাে অনুষ্ঠিত হয় । মিলানায়তনের নীচতলা ও দোতলা মিলে আটশত শিক্ষার্থীর আসন সংকুলান হয়। (বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত) ও দুরের ছাত্রদের থাকার জন্য বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে রয়েছে একটি বড় দ্বিতল ছাত্রাবাস। ছাত্ররা এখানে একজন যােগ্য তত্ত্বাবধায়কের নিয়ন্ত্রণে থেকে লেখাপড়া করে। ছাত্রাবাসে প্রতি সিট ভাড়া বাবদ মাসিক ১.২৫ টাকা ও কিছু বৈদ্যুতিক খরচ দিতে হয়। মিল চার্জ ছাত্রদের বাজার ও আনসঙ্গিক খরচের উপর নির্ভর করে। নামাযের জন্য এখানেও আছে একটি নামায কক্ষ। বিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ দুইটি কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। এছাড়া যশোর বোর্ডে অত্র বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের জন্য বিশেষ সুনাম রয়েছে।


Posted

in

by

Tags: